জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
নাম: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সংক্ষিপ্ত নাম: জবি বা JnU
অবস্থান: সদরঘাটের কাছে, পুরান ঢাকা
বিশেষ পরিচয়: বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উত্তরসূরি, পুরান ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পটা অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়।
এখানে পাহাড় নেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। বিশাল সবুজ মাঠও নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। আর জাহাঙ্গীরনগরের মতো লেক আর পরিযায়ী পাখির রাজ্যও নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি অন্য জায়গায়।
এর শক্তি হলো ইতিহাস।
পুরান ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা, বুড়িগঙ্গার কাছাকাছি জনজীবন, শত বছরের পুরোনো শিক্ষার ঐতিহ্য এবং রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—সব মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি আলাদা অভিজ্ঞতার নাম।
হয়তো তুমি এখন ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে ভাবছ—
“ঢাকার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব।”
আর সেই স্বপ্নের তালিকায় যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, তাহলে তোমার জন্য শুরু হতে পারে পুরান ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নতুন অধ্যায়।
১৮৫৮ থেকে আজকের জবি: একটি দীর্ঘ পথচলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নয়।
আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৮৫৮ সালে। সে সময় প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল। পরবর্তীতে ১৮৭২ সালে জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেন এবং এর নামকরণ করেন জগন্নাথ স্কুল। এরপর ১৮৮৪ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে উন্নীত হয় এবং পরে ধাপে ধাপে জগন্নাথ কলেজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জগন্নাথের ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসও জড়িয়ে আছে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর জগন্নাথ কলেজের একাডেমিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে আবার ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। ১৯৬৮ সালে কলেজটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১৯৭৫ সালে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।
কিন্তু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বপ্ন ছিল আরও বড়।
জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫ পাসের মাধ্যমে। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অর্থাৎ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বয়সে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও তার শিক্ষাগত ঐতিহ্য দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো।
এই জায়গাটিই জবিকে আলাদা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় নতুন, কিন্তু ইতিহাস পুরোনো।
পুরান ঢাকার বুকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয় পাহাড়ের দিকে।
জাহাঙ্গীরনগরে যেতে হয় সবুজের মাঝে।
কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তুমি ঢুকে পড়বে পুরান ঢাকার ব্যস্ত, ঐতিহাসিক এবং প্রাণবন্ত জীবনের মধ্যে।
ক্যাম্পাসের আশপাশে রয়েছে—
পুরান ঢাকার শত বছরের ইতিহাস।
ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।
ব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকা।
বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী জনজীবন।
বিভিন্ন ধরনের খাবার।
আর এমন এক নগরজীবন, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
জবি শিক্ষার্থী হওয়া মানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের জীবন নয়।
পুরান ঢাকাও হয়ে ওঠে তোমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অংশ।
ক্লাস শেষে হয়তো বন্ধুরা মিলে কোথাও নাস্তা করতে গেলে।
কোনোদিন পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবারের খোঁজে বের হলে।
কোনোদিন ইতিহাসের কোনো স্থাপনা দেখতে গেলে।
তখন বুঝবে—
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হয়তো আয়তনে সীমিত, কিন্তু এর চারপাশের পৃথিবী বিশাল।
একাডেমিক দুনিয়া: কী কী পড়া যায়?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় চারটি অনুষদ ও ২০টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিভাগ, অনুষদ ও ইনস্টিটিউট যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে জবিতে রয়েছে ৭টি অনুষদ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং ৩৮টি বিভাগ।
প্রধান অনুষদগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- কলা অনুষদ
- বিজ্ঞান অনুষদ
- ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
- সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
- আইন অনুষদ
- লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস অনুষদ
- চারুকলা অনুষদ
কলা ও মানবিকের সমৃদ্ধ জগৎ
বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ, দর্শন, সংগীত ও থিয়েটারের মতো বিভাগ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশেষ করে যারা সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন বা সংস্কৃতি নিয়ে পড়তে চাও, তাদের জন্য জবি একটি গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ হতে পারে। বর্তমানে কলা অনুষদের অধীনে আটটি বিভাগ রয়েছে।
বিজ্ঞান থেকে CSE, ফার্মেসি থেকে মাইক্রোবায়োলজি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক পড়াশোনার ক্ষেত্রও বেশ বিস্তৃত।
বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে—
- রসায়ন
- গণিত
- পদার্থবিজ্ঞান
- পরিসংখ্যান
- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
এছাড়াও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেসের বিভিন্ন বিভাগে জীববিজ্ঞান, পরিবেশ, ফার্মেসি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
যারা ভবিষ্যতে গবেষণা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বা বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় যেতে চাও, তাদের জন্য জবিতে বিভিন্ন একাডেমিক পথ রয়েছে।
চারুকলা: জবির নতুন এক অধ্যায়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিকাশের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনগুলোর মধ্যে রয়েছে চারুকলা অনুষদ।
২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চারুকলা অনুষদের যাত্রা শুরু হয়। এর অধীনে ফাইন আর্টস থেকে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং এবং ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশার মতো বিভাগ গড়ে উঠেছে।
যারা ছবি আঁকতে ভালোবাসো।
ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে কাজ করতে চাও।
ডিজাইন, শিল্প ও সৃজনশীলতার জগতে নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে চাও—
তাদের জন্যও জবির একাডেমিক পরিসর ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে—
- অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ
- ফাইন্যান্স
- মার্কেটিং
এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রয়েছে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং অন্যান্য বিভাগ।
আইন নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র আইন অনুষদও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো ধাপে ধাপে চালু ও পুনর্গঠিত হয়ে বর্তমান একাডেমিক কাঠামো তৈরি করেছে।
অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর জন্য জবি শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নয়।
তুমি যদি বিজ্ঞান পড়তে চাও—সুযোগ আছে।
ব্যবসায় শিক্ষা পড়তে চাও—সুযোগ আছে।
আইন নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে চাও—সুযোগ আছে।
মানবিক বা সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চাও—সেখানেও রয়েছে পথ।
ক্যাম্পাস ছোট, কিন্তু স্বপ্ন ছোট নয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়—
“ক্যাম্পাস ছোট।”
হ্যাঁ, দেশের অনেক আবাসিক ও বিস্তীর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জবির মূল ক্যাম্পাসের জায়গা সীমিত।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্য কি শুধু একরের হিসাবে নির্ধারণ করা যায়?
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল শক্তি তৈরি হয়—
তার শিক্ষক দিয়ে।
শিক্ষার্থী দিয়ে।
গবেষণা দিয়ে।
ঐতিহ্য দিয়ে।
এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের কাজ দিয়ে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এর অবস্থান।
এটি দেশের রাজধানী ঢাকায়।
ফলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ইন্টার্নশিপ, সেমিনার এবং পেশাগত সুযোগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ঢাকা শহর এখানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নয়।
অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি হয়ে ওঠে শেখার একটি অতিরিক্ত ক্ষেত্র।
জবির শিক্ষার্থী জীবন
বিশ্ববিদ্যালয় মানেই শুধু সকাল ৯টার ক্লাস আর বিকেল ৪টার ক্লাস নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মানে—
বন্ধুত্ব।
আড্ডা।
সংগঠন।
প্রতিযোগিতা।
সেমিনার।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
খেলাধুলা।
আর নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নতুন একটি পরিচয় আবিষ্কার করা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, বিতর্ক, ভাষা ও শিক্ষার্থীভিত্তিক কার্যক্রম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের অফিসিয়াল তথ্যেও ডিবেটিং ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডাইনিং এবং হল লাইব্রেরির মতো সুবিধা ও কার্যক্রমের উল্লেখ পাওয়া যায়।
তুমি হয়তো ভর্তি হবে CSE পড়ার জন্য।
কিন্তু চার বছর পর দেখা গেল—
তুমি একজন ভালো বিতার্কিকও।
কিংবা সাংবাদিকতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হয়তো কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছ।
অথবা গবেষণার দিকে ঝুঁকেছ।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার সম্ভবত এটিই—
তুমি ভর্তি হওয়ার সময় জানো না, চার বছর পর তুমি আসলে কেমন মানুষ হয়ে বের হবে।
ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান
জগন্নাথের ইতিহাস শুধু শিক্ষার ইতিহাস নয়।
এটি বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত।
ব্রিটিশ আমল।
দেশভাগ।
পাকিস্তান পর্ব।
ভাষা আন্দোলনের সময়কাল।
মুক্তিযুদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ।
বিভিন্ন যুগ পার করে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে।
জগন্নাথ প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নথিতে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি প্রতিষ্ঠান যখন দেড় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে টিকে থাকে, তখন তার দেয়াল শুধু ইট-পাথরের গল্প বলে না।
সেখানে জমা থাকে—
হাজারো শিক্ষার্থীর পদচিহ্ন।
হাজারো শিক্ষকের শিক্ষা।
হাজারো স্বপ্ন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে কেমন হতে পারে তোমার একটি দিন?
সকালে হয়তো ঘুম থেকে উঠলে দেখবে—
আজ প্রথম ক্লাসটা ৯টায়।
তাড়াহুড়ো করে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে।
ক্লাস শেষে বন্ধুরা বলবে—
“চল, একটু ঘুরে আসি।”
তারপর শুরু হবে পুরান ঢাকার গল্প।
দুপুরে আবার ক্লাস।
কোনোদিন বিভাগীয় সেমিনার।
কোনোদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কোনোদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার চাপ।
আর পরীক্ষার সময়?
তখন পুরো পৃথিবীটাই হয়তো কয়েকটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
এটাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।
কখনো মনে হবে সময় যাচ্ছে না।
আবার শেষ বর্ষে এসে মনে হবে—
“এত দ্রুত চার বছর শেষ হয়ে গেল!”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন তোমার পছন্দ হতে পারে?
১. দেড় শতাব্দীর বেশি শিক্ষার ঐতিহ্য
জগন্নাথের ইতিহাস শুরু ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুল থেকে। পরবর্তীতে স্কুল, কলেজ এবং অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান অবস্থানে এসেছে।
২. রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান
ঢাকার দক্ষিণ অংশে, বুড়িগঙ্গার কাছাকাছি অবস্থান জবিকে একটি বিশেষ ভৌগোলিক সুবিধা দিয়েছে।
৩. ৩৮টি বিভাগে পড়াশোনার সুযোগ
বর্তমানে ৭টি অনুষদ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং ৩৮টি বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
৪. বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়
বিজ্ঞান, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস ও চারুকলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
৫. পুরান ঢাকার অনন্য অভিজ্ঞতা
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবন থেকে জবির অভিজ্ঞতা আলাদা, কারণ এখানে তোমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে মিশে যাবে পুরান ঢাকার ইতিহাস ও নগরজীবন।
শেষ কথা: পুরান ঢাকার সেই ক্যাম্পাস কি একদিন তোমার হবে?
আজ হয়তো তুমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ইন্টারনেটে পড়ছ।
ক্যাম্পাসের ছবি দেখছ।
বিভাগগুলোর নাম দেখছ।
ভাবছ—
“আমি কি পারব?”
হয়তো পারবে।
কিন্তু তার জন্য আজকের দিনটা নষ্ট করা যাবে না।
কারণ আজকের একটি অধ্যায় কালকের আত্মবিশ্বাস।
আজকের একটি মডেল টেস্ট পরীক্ষার দিনের অভিজ্ঞতা।
আর আজকের একটি ভুল শুধরে নেওয়া হয়তো ভবিষ্যতে তোমাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।
একদিন হয়তো ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে।
তুমি নিজের রোল নম্বর খুঁজবে।
হয়তো কয়েকবার চেক করবে।
তারপর দেখবে—
তোমার নামের পাশে লেখা আছে—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
সেদিন তুমি আর শুধু একজন ভর্তিচ্ছু থাকবে না।
তুমি হয়ে যাবে একটি দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো শিক্ষার ঐতিহ্যের অংশ।
স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পথ শুরু হয় না ভর্তি পরীক্ষার দিন।
পথ শুরু হয় আজ—তোমার পড়ার টেবিল থেকে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সবুজের রাজ্যে, পাখির শহরে আর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এক নতুন জীবনের শুরু
পরবর্তীজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস
সম্পর্কিত সংবাদ
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা
বাংলা শিক্ষা
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা

বাংলা শিক্ষা
দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টিভিইটি (TVET)-কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জাতীয় সংলাপে

বাংলা শিক্ষা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): যে স্বপ্নের শুরু গণিতের খাতায়, আর শেষ হতে পারে একজন প্রকৌশলী হিসেবে
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস

বাংলা শিক্ষা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সবুজের রাজ্যে, পাখির শহরে আর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এক নতুন জীবনের শুরু
বাংলা শিক্ষা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: পাহাড়, অরণ্য আর শাটলের গল্পে গড়ে ওঠা স্বপ্নের ক্যাম্পাস
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
