কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: লালমাই-ময়নামতির ঐতিহ্যের মাঝে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ক্যাম্পাস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

নাম: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
সংক্ষিপ্ত নাম: কুবি বা CoU
প্রতিষ্ঠা: ২৮ মে ২০০৬
একাডেমিক কার্যক্রম শুরু: ২৮ মে ২০০৭
অবস্থান: কোটবাড়ি, কুমিল্লা
ক্যাম্পাসের আয়তন: প্রায় ৫০ একর
বর্তমান একাডেমিক পরিসর: ৬টি অনুষদ ও ১৯টি বিভাগ
বিশেষ পরিচয়: লালমাই-ময়নামতির ঐতিহাসিক অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম তরুণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তাদের শতবর্ষী ইতিহাসে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিত বিশাল ক্যাম্পাসের জন্য। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক নতুন হয়েও অল্প সময়ের মধ্যে ভর্তিচ্ছুদের স্বপ্নের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তেমনই একটি নাম।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি, কুমিল্লার ঐতিহাসিক কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় বয়সে খুব পুরোনো নয়। কিন্তু এর অবস্থান এমন এক অঞ্চলে, যার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো।
লালমাই পাহাড়।
ময়নামতি।
প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন।
শালবন বিহার।
ঐতিহাসিক কুমিল্লার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
এই ঐতিহাসিক পরিবেশের মাঝেই ২০০৬ সালে জন্ম নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের কাছেও একটি কাঙ্ক্ষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
কেউ স্বপ্ন দেখে CSE পড়ার।
কেউ ফার্মেসি।
কেউ আইন।
কেউ ইংরেজি, অর্থনীতি, প্রত্নতত্ত্ব বা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা।
আর কেউ হয়তো শুধু একটি স্বপ্ন দেখে—
“একদিন আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হব।”
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকে
কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক জনপদ। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।
সেই প্রত্যাশার ফল হিসেবেই ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
তবে প্রতিষ্ঠা আর ক্লাস শুরু একই দিনে হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠার তারিখ ২৮ মে ২০০৬ হলেও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে, ২৮ মে ২০০৭ সালে। (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য)
শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল মাত্র ৭টি বিভাগ।
সেগুলো ছিল—
- ইংরেজি
- অর্থনীতি
- লোক প্রশাসন
- গণিত
- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ
- অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
- মার্কেটিং
মাত্র সাতটি বিভাগ নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিই বিস্তৃত হয়েছে।
বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগ।
একটি তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশের গল্প সম্ভবত এমনই।
শুরুটা ছোট।
স্বপ্নটা বড়।
আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নের পরিধিও বড় হতে থাকে।
লালমাই-ময়নামতির ইতিহাসের পাশে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর অবস্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায়, লালমাই ও ময়নামতির ঐতিহাসিক অঞ্চলের কাছে অবস্থিত।
এই অঞ্চল শুধু একটি সাধারণ ভৌগোলিক জায়গা নয়। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, বৌদ্ধ সভ্যতা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
কাছেই রয়েছে ময়নামতির প্রাচীন প্রত্নস্থল ও বৌদ্ধ বিহারের স্মৃতি।
অর্থাৎ, তুমি যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবে, তখন তোমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের চারপাশে থাকবে শুধু আধুনিক একাডেমিক ভবন নয়—থাকবে ইতিহাসেরও উপস্থিতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে।
ক্যাম্পাসটি হয়তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ৭৫৩ একরের নয়।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য সবসময় শুধু আয়তন দিয়ে মাপা যায় না।
কখনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল আকর্ষণ থাকে তার পরিবেশে।
কখনো মানুষের মধ্যে।
কখনো ইতিহাসে।
আর কখনো সেই জায়গাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নে।
ছোট ক্যাম্পাস, কিন্তু বিষয় নির্বাচনের সুযোগ বড়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় শক্তি হলো এর একাডেমিক বৈচিত্র্য।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে—
বিজ্ঞান অনুষদ
- গণিত
- পদার্থবিজ্ঞান
- রসায়ন
- পরিসংখ্যান
- ফার্মেসি
কলা ও মানবিক অনুষদ
- ইংরেজি
- বাংলা
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
- অর্থনীতি
- লোক প্রশাসন
- নৃবিজ্ঞান
- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
- প্রত্নতত্ত্ব
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ
- অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
- মার্কেটিং
- ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং
প্রকৌশল অনুষদ
- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
- ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি
আইন অনুষদ
- আইন
এই ১৯টি বিভাগ মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো গড়ে উঠেছে।
অর্থাৎ তুমি বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা প্রযুক্তিভিত্তিক কোনো বিষয়ে আগ্রহী হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমার জন্য বিভিন্ন পথ রয়েছে।
আর ভবিষ্যতে এই পরিসর আরও বাড়বে—এমন পরিকল্পনার কথাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অফিসিয়াল বার্তায় উঠে এসেছে।
কুবির বিজ্ঞান শিক্ষা: ক্লাসরুমের বাইরেও শেখা
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিজ্ঞান শিক্ষা শুধু বই পড়ে শেষ করার বিষয় নয়।
পদার্থবিজ্ঞান পড়তে হলে পরীক্ষাগারে যেতে হবে।
রসায়নের শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে কাজ করতে হবে।
ফার্মেসির শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন ব্যবহারিক জ্ঞান।
পরিসংখ্যানের শিক্ষার্থীকে তথ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, Outcome-Based Curriculum বা OBE কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াই যথেষ্ট নয়।
তোমাকে জানতে হবে—
তুমি যা শিখছ, সেটি বাস্তবে কীভাবে কাজে লাগানো যায়।
আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মূলত সেই জায়গাটিতেই স্কুল-কলেজের পড়াশোনা থেকে আলাদা।
প্রত্নতত্ত্ব পড়বে, আর চারপাশেই থাকবে ইতিহাস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ বিভাগ হলো প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।
আর এই বিভাগটির অবস্থান কুমিল্লার ঐতিহাসিক অঞ্চলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ময়নামতি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল।
প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন এই অঞ্চলের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
তাই ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়তে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীর জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থান একটি আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
বইয়ে পড়া ইতিহাসের কাছাকাছি থেকে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা—এটাও তো এক ধরনের সৌভাগ্য।
প্রযুক্তির যুগে CSE ও ICT
বর্তমান সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিভিত্তিক বিভাগ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদে রয়েছে—
Computer Science and Engineering (CSE)
এবং
Information and Communication Technology (ICT)।
প্রযুক্তির বর্তমান পৃথিবীতে সফটওয়্যার, ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নেটওয়ার্ক, সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ে কাজের ক্ষেত্র প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
তাই যারা প্রযুক্তি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখো, তাদের জন্য এই বিভাগগুলো গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হতে পারে।
শুধু ক্লাস নয়, গবেষণার দিকেও এগিয়ে যাও
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে গবেষণা শব্দটি প্রথমে হয়তো কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে।
কিন্তু গবেষণা মানে সবসময় বড় কোনো বিজ্ঞানী হয়ে যাওয়া নয়।
গবেষণা মানে প্রশ্ন করা।
কোনো সমস্যাকে নতুনভাবে দেখা।
তথ্য সংগ্রহ করা।
বিশ্লেষণ করা।
এবং নতুন কিছু জানার চেষ্টা করা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোয় চলমান, সম্পন্ন এবং অর্থায়িত গবেষণার জন্য আলাদা বিভাগও রয়েছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যদি তুমি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করো, তাহলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ কিংবা গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে সেটি তোমাকে বাড়তি অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
হলজীবন: নতুন জীবনের শুরু
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে হলজীবনের মাধ্যমে।
বাড়ি থেকে দূরে থাকা।
নিজের সময় নিজে ঠিক করা।
রুমমেটের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন ভাগ করে নেওয়া।
পরীক্ষার আগের রাতে একসঙ্গে পড়াশোনা।
কখনো ক্যান্টিনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা।
আবার কখনো রাতে রুমে বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- কাজী নজরুল ইসলাম হল
- শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল
- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল
- বিজয়-২৪ হল
- সুনীতি শান্তি হল
হলজীবন সবসময় শুধু সুবিধার গল্প নয়। এর মধ্যে থাকে মানিয়ে নেওয়া, দায়িত্ব নেওয়া এবং নতুন মানুষের সঙ্গে পথচলার অভিজ্ঞতা।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার পর যখন কেউ তার ক্যাম্পাসজীবনের কথা মনে করে, তখন এই হলের অসংখ্য ছোট ছোট মুহূর্তই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
ক্যাম্পাস লাইফ মানে নিজের আরেকটি পরিচয় তৈরি করা
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তুমি শুধু একটি বিষয়ের শিক্ষার্থী নও।
তুমি চাইলে হতে পারো একজন বিতার্কিক।
একজন সংগঠক।
একজন লেখক।
একজন ফটোগ্রাফার।
একজন স্বেচ্ছাসেবক।
একজন গবেষক।
একজন প্রোগ্রামার।
অথবা এমন কোনো পরিচয় তৈরি করতে পারো, যেটি সম্পর্কে তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে কখনো ভাবোনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সুবিধা ও ক্যাম্পাসভিত্তিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে Sports & Culture, Medical Center, Cafeteria, Transport এবং Career & Jobs-এর মতো বিভিন্ন শিক্ষার্থীসেবা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের আসল সৌন্দর্য।
তুমি হয়তো ক্লাসে গিয়ে তোমার বিষয় শিখবে।
কিন্তু ক্যাম্পাস তোমাকে শেখাবে—
মানুষের সঙ্গে কাজ করতে।
দল পরিচালনা করতে।
নিজের মতামত প্রকাশ করতে।
ব্যর্থতা সামলাতে।
এবং নতুন করে নিজেকে চিনতে।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ল্যাবরেটরি
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো লাইব্রেরি।
পরীক্ষার আগের রাতে নোট খোঁজা কিংবা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য বই নেওয়ার বাইরে লাইব্রেরির আরও বড় একটি ভূমিকা রয়েছে।
এখান থেকেই তৈরি হতে পারে পড়ার অভ্যাস।
ক্লাসের বইয়ের বাইরে অন্য কিছু জানার আগ্রহ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সেমিনার লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি এবং আধুনিক শ্রেণিকক্ষের সুবিধার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন ভালো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হওয়ার অর্থ শুধু পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নয়।
বরং এমন কিছু জানা, যা তোমার শিক্ষক এখনো পড়াননি।
সেখানেই একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একজন সত্যিকারের জ্ঞান অনুসন্ধানীর পার্থক্য।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের তালিকায়?
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করে এমন কয়েকটি বিষয় রয়েছে।
ঐতিহাসিক অঞ্চলে অবস্থান
লালমাই ও ময়নামতির ঐতিহাসিক পরিবেশের কাছাকাছি অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি
দেশের দুটি প্রধান শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থান হওয়ায় যাতায়াতের দিক থেকেও এর ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
বৈচিত্র্যময় বিষয়
বিজ্ঞান, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল এবং আইন—বিভিন্ন শাখায় পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
তুলনামূলক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়
তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন অবকাঠামো, নতুন বিভাগ এবং একাডেমিক উন্নয়নের সুযোগও ক্রমাগত বাড়ছে।
ইতিহাস ও আধুনিক শিক্ষার সংযোগ
একদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ অঞ্চল, অন্যদিকে CSE, ICT, Pharmacy এবং আধুনিক একাডেমিক বিভাগ—এই দুইয়ের সমন্বয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শত শত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বড় একাডেমিক সম্প্রদায়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
শেষ কথা: স্বপ্নটা যদি হয় কুবি
প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়েরই আলাদা ইতিহাস আছে।
আলাদা পরিবেশ আছে।
আলাদা গল্প আছে।
আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্পটি হলো—একটি ঐতিহাসিক অঞ্চলে জন্ম নেওয়া তরুণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার গল্প।
হয়তো আজ তুমি এই লেখাটি পড়ছ একজন ভর্তিচ্ছু হিসেবে।
কয়েক মাস পর তুমি ভর্তি পরীক্ষার হলে বসবে।
তারপর ফলাফলের অপেক্ষা।
আর যদি তোমার পরিশ্রম সফল হয়, একদিন হয়তো কোটবাড়ির সেই ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি।
প্রথম ক্লাসে যাবে।
নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে।
কোনোদিন ক্যাফেটেরিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেবে।
কোনোদিন লাইব্রেরিতে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে।
কোনোদিন কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।
আর কোনো এক বিকেলে হয়তো ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হবে—
“একসময় এই জায়গাটা শুধু আমার স্বপ্ন ছিল।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ময়ূর নদের পাড়ে স্বপ্ন, গবেষণা আর অন্যরকম এক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
পরবর্তীচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: পাহাড়, অরণ্য আর শাটলের গল্পে গড়ে ওঠা স্বপ্নের ক্যাম্পাস
সম্পর্কিত সংবাদ
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা
বাংলা শিক্ষা
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা

বাংলা শিক্ষা
দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টিভিইটি (TVET)-কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জাতীয় সংলাপে

বাংলা শিক্ষা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): যে স্বপ্নের শুরু গণিতের খাতায়, আর শেষ হতে পারে একজন প্রকৌশলী হিসেবে
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস

বাংলা শিক্ষা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সবুজের রাজ্যে, পাখির শহরে আর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এক নতুন জীবনের শুরু
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
