রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: পদ্মার পাড়ের সবুজ ক্যাম্পাসে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস লেখা হয়েছে রক্তে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠা: ৬ জুলাই ১৯৫৩
অবস্থান: মতিহার, রাজশাহী
ক্যাম্পাস: প্রায় ৭৫৩ একর
বিশেষত্ব: উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর যে নামগুলো সামনে আসে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অন্যতম। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু দেশের অন্যতম বড় বিশ্ববিদ্যালয় বললে এর পরিচয়ের অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে একদিকে বিশাল সবুজ ক্যাম্পাস, অন্যদিকে ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, আইন, ব্যবসা, কৃষি, চারুকলা, জীববিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান থেকে শুরু করে ভেটেরিনারি ও ফিশারিজ পর্যন্ত বিস্তৃত একাডেমিক পরিসর। আছে গবেষণার সুযোগ, আবাসিক হল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, খেলাধুলা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার।
আর আছে এমন এক ইতিহাস, যেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিজের শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন।
সেই গল্পটি শুরু করার আগে একটু ফিরে যেতে হবে ১৯৪৭ সালের পরের সময়ে।
কেন রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন হয়েছিল?
পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সহজ ছিল না।
ফলে উত্তরাঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। বিভিন্ন আলোচনা ও সমীক্ষার পর রাজশাহীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। অবশেষে ৩১ মার্চ ১৯৫৩ তৎকালীন পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদে Rajshahi University Act, 1953 পাস হয়। আর ৬ জুলাই ১৯৫৩ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর ইত্রাত হোসেন জুবেরী।
শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর আজকের মতো বিশাল ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস মতিহারে প্রায় ৭৫৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ক্যাম্পাসটি রাজশাহী শহরের পূর্বদিকে এবং পদ্মা নদীর খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
৭৫৩ একরের সবুজ পৃথিবী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি এর ক্যাম্পাস।
ঢাকার ব্যস্ততা কিংবা শহুরে কোলাহলের তুলনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক বেশি প্রশস্ত, সবুজ এবং শান্ত। বিশাল জায়গাজুড়ে গাছপালা, রাস্তার দুই পাশে সবুজ, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, খেলার মাঠ—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসটি যেন নিজেই একটি আলাদা পৃথিবী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও মতিহারের এই সবুজ ক্যাম্পাস এবং পদ্মার নৈকট্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনটি প্রধান প্রবেশপথ—মেইন গেট, কাজলা গেট ও বিনোদপুর গেট—দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যায়।
নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়তে পারে, তা হলো এর বিশালতা।
এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যেতে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো মনে হবে—এটাই তো বিশ্ববিদ্যালয়জীবন!
শুধু একটি বিষয় নয়, জ্ঞানের বিশাল পরিসর
তুমি যদি ভাবো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মানেই শুধু বাংলা, ইতিহাস কিংবা সামাজিক বিজ্ঞান—তাহলে তুমি বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান একাডেমিক পরিসর সম্পর্কে পুরোপুরি জানো না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রয়েছে ১২টি অনুষদ—কলা, আইন, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, চারুকলা, জীববিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, ফিশারিজ এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস।
বিভাগের তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়।
বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, সংগীত ও নাট্যকলা যেমন আছে; তেমনি আছে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, পরিসংখ্যান, ফার্মেসি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি।
আবার প্রকৌশল অনুষদে রয়েছে CSE, ICE, EEE, Materials Science and Engineering এবং Applied Chemistry & Chemical Engineering। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে রয়েছে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।
অর্থাৎ তুমি বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা অন্য কোনো শাখার শিক্ষার্থী হও—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের আগ্রহ অনুযায়ী একাডেমিক পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শহীদ শামসুজ্জোহা: যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে শহীদ হয়েছিলেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে গর্বের এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হলো শহীদ অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা-র গল্প।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে তিনি সামনে এগিয়ে যান। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি না চালানোর আহ্বান জানান। একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
শহীদ শামসুজ্জোহার মৃত্যু বাংলাদেশের ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে নিহত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
আজ তাঁর নামে রয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা হল। তাঁর কবরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থিত।
একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যখন তাঁর স্মৃতির সামনে দাঁড়ায়, তখন সে শুধু একজন শিক্ষকের নাম দেখে না—দেখে একজন শিক্ষক কীভাবে নিজের শিক্ষার্থীদের জন্য জীবন দিতে পারেন তার বাস্তব উদাহরণ।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও ছড়িয়ে আছে ক্যাম্পাসজুড়ে
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে সাবাশ বাংলাদেশ, শহীদ মিনার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ইতিহাসও মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করে। ১৯৭১ সালে হলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানে বহু বাঙালি নারী-পুরুষকে বন্দী করে নির্যাতন ও হত্যা করা হয় এবং মৃতদেহ হলসংলগ্ন বধ্যভূমিতে ফেলে দেওয়া হতো।
তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় নেই।
কখনো তা একটি ভাস্কর্যে, কখনো একটি স্মৃতিস্তম্ভে, কখনো একটি হলের নামের মধ্যে, আবার কখনো কোনো গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা স্মৃতিতে।
শামসুজ্জোহা থেকে আজকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
একসময় যে বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন মেটাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ সেটিই দেশের অন্যতম বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বর্তমানে ৩০,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী এবং ১,২০০-এর বেশি শিক্ষক-এর তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক ইনস্টিটিউট। যেমন—
- Institute of Bangladesh Studies
- Institute of Biological Sciences
- Institute of Business Administration
- Institute of Education and Research
- Institute of Environmental Science
- Institute of English and Other Languages
বিশেষ করে Institute of Bangladesh Studies (IBS) দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।
হলজীবন: বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজীবন বুঝতে হলে হলজীবনকে বুঝতে হবে।
আবাসিক হলগুলো শুধু থাকার জায়গা নয়। এখানে তৈরি হয় বন্ধুত্ব, দলগত কাজ, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা এবং অসংখ্য স্মৃতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে রয়েছে শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল, শাহ মখদুম হল, নবাব আবদুল লতিফ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, মুন্নুজান হল, রোকেয়া হল, তাপসী রাবেয়া হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, রহমতুন্নেসা হল, রহমতুন্নেসা হলসহ আরও বিভিন্ন আবাসিক সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল Residence Hall তালিকায় বর্তমান হলগুলোর তথ্য দেওয়া রয়েছে।
একজন নতুন শিক্ষার্থীর কাছে প্রথমে হলের পরিবেশ কিছুটা অপরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু কয়েক মাস পর সেই হলের রুম, বারান্দা, ক্যান্টিন, মাঠ কিংবা কমনরুমই হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর অংশ।
পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ক্লাস আর পরীক্ষা নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় কাজ হলো নতুন জ্ঞান তৈরি করা। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট, গবেষণাগার ও একাডেমিক কাঠামো।
বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পরিবেশ, বাংলাদেশ স্টাডিজ, ব্যবসা, শিক্ষা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর অনেকগুলোতেই MPhil ও PhD পর্যায়ের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগেও MPhil ও PhD প্রোগ্রামের কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য উল্লেখ করেছে।
তুমি যদি ভবিষ্যতে শিক্ষক, গবেষক বা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চাও, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই গবেষণামুখী হওয়ার অভ্যাস তোমাকে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে।
লাইব্রেরি থেকে ল্যাব—সুবিধার পরিসরও বড়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে Central Library, ICT Center, Central Science Lab, Science Workshop, Medical Center, Mental Health Center, Career Counselling Center, Physical Education, Transport এবং Residence Hallসহ বিভিন্ন সুবিধা।
অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু বিভাগীয় ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ক্লাসের বাইরে পড়ার জন্য লাইব্রেরি, গবেষণার জন্য ল্যাব, শরীরচর্চার জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা, অসুস্থ হলে মেডিকেল সেন্টার, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে পরামর্শের জন্য Career Counselling—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিককে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়জীবন তৈরি করার চেষ্টা রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ কেমন?
এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দিলে বলা যায়—শান্ত, সবুজ, প্রাণবন্ত এবং বৈচিত্র্যময়।
সকালে ক্লাসে যাওয়ার সময় গাছপালায় ঘেরা রাস্তা, দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বিকেলে মাঠে খেলাধুলা, সন্ধ্যায় সংগঠনের অনুষ্ঠান কিংবা রাতে হলে বসে পড়াশোনা—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দিনই আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
ক্যাম্পাসের বড় জায়গা শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোরাঘুরি ও সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি করে। পদ্মার নৈকট্য এবং রাজশাহীর তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অভিজ্ঞতাকে অন্যরকম করে তুলেছে।
আর সংস্কৃতির দিক থেকেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে নেই।
কলা অনুষদের অধীনে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ রয়েছে। চারুকলা অনুষদে রয়েছে Painting, Oriental Art & Printmaking, Ceramics and Sculpture এবং Graphic Design, Crafts & History of Art বিভাগ।
অর্থাৎ সংস্কৃতি এখানে শুধু অনুষ্ঠানের বিষয় নয়; একাডেমিকভাবেও এর চর্চা হয়।
ক্যাম্পাসের পরিচিত জায়গাগুলো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ক্যাম্পাসের পরিচয়ের অংশ।
সাবাশ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে।
শহীদ মিনার ভাষাশহীদদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
বধ্যভূমি মনে করিয়ে দেয় ১৯৭১-এর নির্মমতার কথা।
আর শহীদ শামসুজ্জোহা-র স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৯-এর সেই শিক্ষককে, যিনি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছিলেন।
এছাড়া ক্যাম্পাসে রয়েছে রবীন্দ্র ভবন, জয়নুল আবেদিন চারুকলা ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু বিজ্ঞান ভবন, জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবন, জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবনসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন।
নামগুলো দেখলেই বোঝা যায়—বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করেই এগিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
কেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এত জনপ্রিয়?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এর সমন্বিত পরিচয়।
এটি যেমন একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, তেমনি এর রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
এটি যেমন গবেষণার জায়গা, তেমনি সাংস্কৃতিক চর্চারও জায়গা।
এটি যেমন আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, তেমনি বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসেরও বিশ্ববিদ্যালয়।
এটি যেমন উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, তেমনি জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোরও সাক্ষী।
আর সবকিছুর ওপরে আছে এর নিজস্ব একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতি।
ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে থেকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়জীবন উপভোগ করতে চায়, তাদের কাছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তোমার ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে না। শেষ পর্যন্ত তোমার দক্ষতা, পরিশ্রম, চিন্তাশক্তি এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: যে ক্যাম্পাসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস
পরবর্তীখুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ময়ূর নদের পাড়ে স্বপ্ন, গবেষণা আর অন্যরকম এক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
সম্পর্কিত সংবাদ
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা
বাংলা শিক্ষা
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা

বাংলা শিক্ষা
দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টিভিইটি (TVET)-কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জাতীয় সংলাপে

বাংলা শিক্ষা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): যে স্বপ্নের শুরু গণিতের খাতায়, আর শেষ হতে পারে একজন প্রকৌশলী হিসেবে
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস

বাংলা শিক্ষা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সবুজের রাজ্যে, পাখির শহরে আর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এক নতুন জীবনের শুরু
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
