গুরুতর স্নায়বিক অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ১৬ জন রোগীর ওপর একটি ছোট পরীক্ষায় দেখা গেছে, JY231 নামের একটি একক ইনফিউশন শরীরের ভেতরেই CAR T কোষ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই চিকিৎসায় রোগীর নিজের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তা শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর B কোষগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে। ফলাফলগুলি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে।
CAR T-সেল থেরাপি: একটি জটিল কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি
CAR T-সেল থেরাপি একটি ইমিউন-রিপ্রোগ্রামিং প্রক্রিয়া, যেখানে রোগীর নিজের টি কোষগুলিকে ল্যাবে পরিবর্তন করে ক্যান্সার বা অটোইমিউন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায়:
রোগীর রক্ত থেকে টি কোষ সংগ্রহ করা হয়,
সেগুলোকে ল্যাবে জিনগতভাবে পরিবর্তন করে CAR (chimeric antigen receptor) দিয়ে সজ্জিত করা হয়,
এবং তারপর সেগুলো আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে রোগীদের লিম্ফোডিপ্লিটিং কেমোথেরাপিও নিতে হয়, যা শরীরের পুরোনো ইমিউন কোষগুলিকে কমিয়ে নতুন কোষগুলির জন্য জায়গা তৈরি করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং রোগীদের জন্য শারীরিকভাবে কষ্টদায়ক।
JY231: এক ড্রিপেই সব
JY231 একটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি। এটি একটি ক্ষতিকারক ভাইরাসের পরিবর্তিত সংস্করণ (লেন্টিভাইরাল ভেক্টর) ব্যবহার করে, যা শরীরের ভেতরেই টি কোষগুলিকে পুনরায় প্রোগ্রাম করার জন্য জিনগত নির্দেশনা পৌঁছে দেয়। রোগীকে শুধুমাত্র একটি শিরাপথে (IV) ইনফিউশন দেওয়া হয়। ১৬ জন রোগীর প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি কাজ করেছে—তাদের শরীরে নতুন CAR T কোষ তৈরি হয়েছে, ১১ দিনের মধ্যে তা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে কাজ করে?
JY231-এর ভাইরাস ভেক্টরটি টি কোষগুলোকে CD19-কে লক্ষ্য করার নির্দেশনা দেয়। CD19 হলো একটি প্রোটিন যা B কোষের পৃষ্ঠে থাকে—এই B কোষগুলিই অটোইমিউন রোগে ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। চিকিৎসার পর রোগীদের রক্তে B কোষের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। দুই মাসের বেশি সময় পরে নতুন B কোষ তৈরি হতে শুরু করে, কিন্তু সেগুলি ছিল সম্পূর্ণ নতুন এবং আগের ক্ষতিকর কোষগুলির থেকে আলাদা—যেন ইমিউন সিস্টেমটিকে রিসেট করে দেওয়া হয়েছিল।
রোগীদের মধ্যে ফলাফল
চার ধরনের অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে উন্নতি দেখা গেছে:
প্রগতিশীল মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS)-এ আক্রান্ত ৭ জন রোগীর শারীরিক অক্ষমতা কমেছে, জ্ঞানীয় ও শারীরিক কার্যকারিতা বেড়েছে এবং ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জেনারেলাইজড মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (gMG)-এ আক্রান্ত ৩ জন রোগীর শরীরে আক্রমণকারী অ্যান্টিবডির মাত্রা কমেছে।
MOGAD রোগীদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর আক্রমণকারী অ্যান্টিবডি কমেছে।
ইডিওপ্যাথিক ইনফ্লেমেটরি মায়োপ্যাথি (IIM)-এ আক্রান্ত রোগীদের পেশির শক্তি বেড়েছে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ
প্রায় ৬৯% রোগীর মধ্যে সাইটোকাইন রিলিজ সিনড্রোম (একটি হালকা ইমিউন প্রতিক্রিয়া) দেখা গেলেও তা অস্থায়ী ছিল এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি কমে যায়। কোনো রোগীর স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি—যা এই চিকিৎসার নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
গবেষকরা এটিকে একটি ‘প্রুফ অফ কনসেপ্ট’ হিসেবে দেখছেন। তবে বড় আকারের ও দীর্ঘমেয়াদী ট্রায়ালের মাধ্যমে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি এটি ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়, তবে এটি অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নতুন আশা বয়ে আনতে পারে, যারা অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া দেননি।