ক্যানসার ফিরে আসার আগেই শরীরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে টিকা: মেলানোমার বিরুদ্ধে নতুন আশার নাম ব্যক্তিগতকৃত mRNA ভ্যাকসিন
ক্যানসার ফিরে আসার আগেই শরীরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে টিকা: মেলানোমার বিরুদ্ধে নতুন আশার নাম ব্যক্তিগতকৃত mRNA ভ্যাকসিন
একজন রোগীর টিউমার থেকে নেওয়া নমুনা। তার ক্যানসার কোষের জিন বিশ্লেষণ। তারপর সেই মানুষটির ক্যানসারের জন্য আলাদা করে তৈরি করা একটি টিকা।
শুনতে ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের গল্পের মতো লাগলেও, সেটিই এখন বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে।
মেলানোমা নামের একটি আক্রমণাত্মক ত্বক ক্যানসারের বিরুদ্ধে তৈরি ব্যক্তিগতকৃত mRNA টিকা intismeran তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার সম্পূর্ণ অপসারণের পর এই টিকা ও ইমিউনোথেরাপি একসঙ্গে নেওয়া রোগীদের মধ্যে ক্যানসার ফিরে না আসা পর্যন্ত সময় তুলনামূলক বেশি ছিল।
এটি এখনো এমন কোনো টিকা নয়, যা ক্যানসার হওয়ার আগেই মানুষকে ক্যানসার থেকে রক্ষা করবে।
বরং এর কাজ আরও ভিন্ন।
ক্যানসারকে শরীর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর, যদি তার কোনো কোষ আবার ফিরে আসতে চায়—তার আগেই রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে সেই ক্যানসার চিনতে শেখানো।
আর সেখানেই এই গবেষণার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য।
একই রোগের জন্য, কিন্তু সবার টিকা এক নয়
সাধারণত একটি টিকা তৈরি হয় একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস বা জীবাণুর বিরুদ্ধে।
একই টিকা দেওয়া হয় লাখো মানুষকে।
কিন্তু ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।
দুইজন মানুষের একই ধরনের ক্যানসার থাকলেও তাদের টিউমারের জিনগত পরিবর্তন এক নাও হতে পারে। একটি মানুষের ক্যানসার কোষে যে পরিবর্তন ঘটেছে, অন্য একজনের ক্ষেত্রে সেটি নাও থাকতে পারে।
ফলে গবেষকেরা এখানে তৈরি করছেন না একটি ‘মেলানোমা টিকা’, যা সবাইকে একইভাবে দেওয়া যাবে।
তারা তৈরি করছেন প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের জন্য আলাদা টিকা।
প্রথমে রোগীর অস্ত্রোপচারে অপসারিত টিউমারের নমুনা নেওয়া হয়।
তারপর সেই টিউমারের জিন বিশ্লেষণ করা হয়।
বিজ্ঞানীরা খোঁজেন ক্যানসার কোষে তৈরি হওয়া বিশেষ জিনগত পরিবর্তন। এসব পরিবর্তনের কারণে ক্যানসার কোষে তৈরি হতে পারে অস্বাভাবিক প্রোটিন, যেগুলোকে বলা হয় নিওঅ্যান্টিজেন।
এগুলোকে এক অর্থে ক্যানসার কোষের পরিচয়চিহ্ন বলা যায়।
রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে যদি এই চিহ্নগুলো চিনতে শেখানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ক্যানসার কোষ দেখা দিলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও দ্রুত সেটিকে শনাক্ত করতে পারে।
এই তথ্য ব্যবহার করেই তৈরি হয় ব্যক্তিগতকৃত mRNA টিকা।
শরীরকে কী শেখায় এই টিকা?
mRNA প্রযুক্তি নিয়ে এখন মানুষের পরিচিতি অনেক বেশি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
এর মূল ধারণা হলো, শরীরের কোষকে সাময়িকভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেওয়া।
ক্যানসার টিকার ক্ষেত্রেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রোগীর টিউমারে পাওয়া নির্দিষ্ট নিওঅ্যান্টিজেনের তথ্য ব্যবহার করে mRNA তৈরি করা হয়।
টিকা শরীরে প্রবেশ করার পর কোষগুলো সেই mRNA-এর নির্দেশ অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট অ্যান্টিজেন তৈরি করে।
এরপর রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা সেই অস্বাভাবিক সংকেতগুলো চিনতে শেখে।
ফলে ভবিষ্যতে শরীরে যদি একই বৈশিষ্ট্যের কোনো ক্যানসার কোষ আবার দেখা দেয়, প্রতিরোধব্যবস্থা তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।
অর্থাৎ এই টিকা ক্যানসার কোষকে সরাসরি বিষ প্রয়োগ করে ধ্বংস করছে না।
এটি শরীরের নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট শত্রুর ছবি দেখিয়ে বলছে—
“এটিকে মনে রাখো।”
প্রায় ১,১০০ রোগী নিয়ে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা
এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ১,১০০ জন উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা রোগী, যাদের টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়েছিল।
তাদের দুই দলে ভাগ করা হয়।
এক দল পায় ব্যক্তিগতকৃত mRNA টিকা intismeran-এর সঙ্গে pembrolizumab নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।
অন্য দল পায় শুধু pembrolizumab।
ফলাফলে দেখা গেছে, টিকা ও ইমিউনোথেরাপির সমন্বিত চিকিৎসা পাওয়া রোগীরা ক্যানসার পুনরায় দেখা দেওয়া ছাড়া তুলনামূলক দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন।
এই ফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্যক্তিগতকৃত mRNA ক্যানসার চিকিৎসার প্রথম বড় পরিসরের, শেষ পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর একটি যেখানে ইতিবাচক ফলের ঘোষণা এসেছে।
তবে গবেষণার এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ক্যানসার ফিরে আসতে কত সময় লাগছে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও চূড়ান্ত প্রশ্ন হলো—
এই চিকিৎসা কি মানুষের আয়ুও বাড়াবে?
সেটি জানার জন্য রোগীদের আরও বহু বছর পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
‘ক্যানসার ভ্যাকসিন’ মানেই ক্যানসার প্রতিরোধ নয়
‘ক্যানসার ভ্যাকসিন’ শব্দটি শুনলে অনেকের মনে হতে পারে, এটি হয়তো এমন একটি ইনজেকশন যা সুস্থ মানুষকে ক্যানসার হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
কিন্তু intismeran-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি তা নয়।
এটি একটি চিকিৎসামূলক বা therapeutic cancer vaccine।
রোগীর শরীরে ইতিমধ্যে ক্যানসার হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দৃশ্যমান টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো—অতি ক্ষুদ্র কিছু ক্যানসার কোষ শরীরে থেকে যেতে পারে।
সেগুলো পরে আবার বেড়ে উঠতে পারে।
ব্যক্তিগতকৃত টিকার উদ্দেশ্য হলো, সেই সম্ভাব্য ফিরে আসার বিরুদ্ধে শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা।
এক অর্থে এটি ক্যানসার হওয়ার আগের প্রতিরক্ষা নয়।
এটি ক্যানসার ফিরে আসার আগের প্রতিরক্ষা।
কেন এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?
এত দিন ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসা বলতে সাধারণত বোঝানো হতো রোগীর ক্যানসারে নির্দিষ্ট কোনো জিনগত পরিবর্তন খুঁজে বের করা এবং তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন করা।
যেমন, মেলানোমার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে BRAF জিনের নির্দিষ্ট পরিবর্তন পাওয়া যায়। সেই পরিবর্তন থাকলে বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিন্তু নতুন পদ্ধতিটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
এখানে শুধু রোগীর জন্য বিদ্যমান কোনো ওষুধ বেছে নেওয়া হচ্ছে না।
প্রতিটি রোগীর জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন একটি চিকিৎসা।
অর্থাৎ একই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া দুইজন রোগী হয়তো একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত, কিন্তু তাদের হাতে পৌঁছানো mRNA টিকার নকশা এক নয়।
তাদের টিউমারের জিনগত পরিচয়ই নির্ধারণ করছে তাদের চিকিৎসার নকশা।
এটি ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার ধারণাকে একেবারে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় বাধা: সময়
ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার সবচেয়ে বড় শক্তিই আবার তার সবচেয়ে বড় সমস্যা।
প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা টিকা তৈরি করতে হয়।
প্রথমে টিউমারের নমুনা সংগ্রহ।
তারপর জিন বিশ্লেষণ।
ক্যানসার কোষের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শনাক্ত করা।
কোন নিওঅ্যান্টিজেন রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, তা নির্বাচন করা।
তারপর তৈরি করতে হয় সেই রোগীর জন্য আলাদা mRNA টিকা।
পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।
কিছু ক্ষেত্রে টিকা তৈরি করতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আর সব ক্যানসার রোগীর হাতে এত সময় থাকে না।
বিশেষ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা তৈরির আগেই রোগের অবস্থা বদলে যেতে পারে।
এই কারণেই ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারের ওপর নয়, প্রযুক্তির গতির ওপরও।
কীভাবে টিউমার বিশ্লেষণ আরও দ্রুত করা যায়?
কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর নিওঅ্যান্টিজেন নির্বাচন করা যায়?
কীভাবে কয়েক মাসের কাজ কয়েক সপ্তাহ বা তারও কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ কোম্পানিগুলো।
এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও ভূমিকা আছে
একটি টিউমারে অসংখ্য জিনগত পরিবর্তন থাকতে পারে।
কিন্তু তার সবগুলো রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তাই সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো—কোন নিওঅ্যান্টিজেনগুলোকে টিকার মধ্যে রাখা হবে, তা নির্বাচন করা।
এখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে গবেষকেরা অনুমান করার চেষ্টা করেন, কোন পরিবর্তনগুলো রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
এরপর পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয় সীমিত সংখ্যক নিওঅ্যান্টিজেন।
সেগুলো দিয়েই তৈরি হয় ব্যক্তিগত টিকার নকশা।
অর্থাৎ এই চিকিৎসার পেছনে কাজ করছে কয়েকটি প্রযুক্তির সমন্বয়—
জিনোম সিকোয়েন্সিং।
mRNA প্রযুক্তি।
ইমিউনোলজি।
এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
একসময় যেসব প্রযুক্তি আলাদা আলাদা গবেষণাগারে নিজেদের মতো করে বিকশিত হচ্ছিল, এখন সেগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে একজন মানুষের ক্যানসারের বিরুদ্ধে।
মেলানোমার পর কোন ক্যানসার?
এই গবেষণার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো মেলানোমার বাইরে।
কারণ ক্যানসার কোষে জিনগত পরিবর্তন এবং সেখান থেকে তৈরি হওয়া নিওঅ্যান্টিজেন শুধু মেলানোমাতেই সীমাবদ্ধ নয়।
তাত্ত্বিকভাবে ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার টিকা অন্যান্য অনেক ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
এ কারণেই গবেষণাটিকে বিজ্ঞানীরা শুধু একটি নির্দিষ্ট ক্যানসারের চিকিৎসা হিসেবে দেখছেন না।
বরং এটি একটি proof of principle—একটি প্রমাণ যে ব্যক্তিগতকৃত mRNA টিকা বাস্তবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, একই পদ্ধতি কি অন্যান্য ক্যানসারেও কার্যকর হবে?
সব ক্যানসারের উত্তর এক রকম নাও হতে পারে।
কিছু টিউমারে প্রচুর জিনগত পরিবর্তন থাকে, ফলে রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে লক্ষ্য দেখানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
অন্য কিছু ক্যানসার হয়তো রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ।
তাই মেলানোমায় সাফল্য পাওয়া মানেই সব ক্যানসারের জন্য একই ফল আসবে না।
তবু দরজাটি এখন খুলেছে।
ক্যানসারের চিকিৎসা কি ‘একই চিকিৎসা সবার জন্য’ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছে?
কয়েক দশক ধরে ক্যানসার চিকিৎসার প্রধান অস্ত্র ছিল অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি।
পরে আসে targeted therapy এবং immunotherapy।
এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান ধীরে ধীরে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক একটি পর্যায়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে একজন রোগীর ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর হয়তো শুধু বলা হবে না—
‘আপনার ফুসফুসের ক্যানসার।’
বরং বলা হবে—
‘আপনার ক্যানসারের এই নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এবং সেই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই চিকিৎসা।’
Moderna ও Merck-এর ব্যক্তিগতকৃত mRNA টিকা সেই ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।
এটি এখনো সবার জন্য অনুমোদিত চিকিৎসা নয়।
এটি এখনো প্রমাণ করেনি যে সব ধরনের ক্যানসার থামানো সম্ভব।
এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের আয়ু বাড়ানোর বিষয়টিও এখনো পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
তবু ফলাফলটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একসময় ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই মানে ছিল এমন অস্ত্র খোঁজা, যা টিউমারের যত বেশি সম্ভব কোষ ধ্বংস করতে পারে।
এখন বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন আরও নির্দিষ্ট কিছু করার।
প্রতিটি রোগীর ক্যানসারকে আলাদা করে চেনা।
তারপর সেই ক্যানসারের নিজস্ব জিনগত পরিচয় ব্যবহার করেই শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
হয়তো ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আর শুধু হবে না—“কোন ওষুধটি এই রোগের জন্য সবচেয়ে ভালো?”
বরং প্রশ্নটি হতে পারে—
“এই নির্দিষ্ট রোগীর ক্যানসারকে হারানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা কী?”
শিংগলসের টিকা কি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাতে পারে? ৭০ হাজার মানুষের গবেষণায় মিলল নতুন ইঙ্গিত
পরবর্তীবিষণ্নতায় কি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা থমকে যায়? ৫ লাখ কোষ বিশ্লেষণে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
সম্পর্কিত সংবাদ

বিজ্ঞান বার্তা
আইনস্টাইনের সমস্যার পেছনের আকৃতিতে মিললো নতুন বিস্ময়কর পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞান বার্তা
১২৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কুমিরের ফসিলে UV আলোতে মিললো সম্ভাব্য ক্যামোফ্লেজ

বিজ্ঞান বার্তা
ক্ষুদ্র কোষীয় "অ্যান্টেনা" ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়
বিজ্ঞান বার্তা
'স্টমাক বাগ' প্রতিরোধী কোষকে অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠায়
বিজ্ঞান বার্তা
'সময় গতি বাড়াচ্ছিল, কমাচ্ছিল, এমনকি থেমেও যাচ্ছিল': পদার্থবিদ ল্যাবে 'মিনি-ইউনিভার্স' তৈরি করে সময়ের একটি মূল তত্ত্ব প্রমাণ করলেন
বিজ্ঞান বার্তা
নাসা ISS-এ পদার্থের পঞ্চম অবস্থা তৈরি করছে, মিনি-ফ্রিজ আকারের quantum ল্যাবের আপগ্রেডের সুবাদে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
