গবেষকরা দেখেছেন, COVID-19 ভ্যাকসিন গ্লিওব্লাস্টোমা (একটি মারাত্মক ব্রেন ক্যান্সার) রোগীদের বাঁচার সময় বাড়িয়ে দিতে পারে। ১৮৭ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা অস্ত্রোপচারের আগে ১০০ দিনের মধ্যে COVID-19 ভ্যাকসিন পেয়েছিলেন, তাঁরা গড়ে ৭৪৩ দিন বেঁচেছিলেন—যেখানে অন্যদের মধ্যে এই সময় ছিল মাত্র ৩৪৯ দিন। অর্থাৎ, প্রায় এক বছর বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।
কীভাবে কাজ করে?
গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা-এর নিউরোসার্জন জেমস মার্কার্ট মনে করছেন, ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ‘জাগিয়ে তুলতে’ পারে, যাতে তা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধেও কাজ করে। তিনি অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, এটি একটি প্রাথমিক গবেষণা এবং এখনও পিয়ার-রিভিউ হয়নি। তবে এটি প্রমাণ করে না যে ভ্যাকসিনই সরাসরি কারণ—শুধু একটি সম্পর্ক (association) দেখা গেছে।
এর আগেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে
গত বছর ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক অনকোলজিস্ট ইলিয়াস সায়ুরের দল দেখেছিলেন, যে সব ফুসফুস বা মেলানোমা ক্যান্সার রোগী COVID-19 ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন, তাঁরা ইমিউনোথেরাপিতে ভালো সাড়া দিয়েছিলেন। এবারের গবেষণাও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন তথ্য যোগ করল।
শুধু COVID-19 ভ্যাকসিন কেন? ফ্লু বা নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন কেন নয়?
গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুবিধা শুধু mRNA-ভিত্তিক COVID-19 ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মতো অন্যান্য ভ্যাকসিনে তেমন প্রভাব মেলেনি। গবেষকদের ধারণা, হয়তো COVID-19 ভ্যাকসিন এমনভাবে ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে যা ক্যান্সারকেও লক্ষ্য করতে পারে। বিশেষত, গ্লিওব্লাস্টোমা কোষে এমন একটি অণু থাকে যার আকৃতি করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের মতো। তাই শরীর যখন করোনাভাইরাস চিনতে শেখে, তখন হয়তো একই সঙ্গে ক্যান্সার কোষও চিনতে পারে।
এখনও যা বাকি
গবেষকরা এখন আরও বড় গ্রুপে এই ফলাফল যাচাই করছেন। যদি তা সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরিকল্পনা করবেন—যেখানে সরাসরি পরীক্ষা করা হবে COVID-19 ভ্যাকসিন ব্রেন ক্যান্সার রোগীদের জন্য কাজ করে কিনা।
তবে মার্কার্ট ও তাঁর সহকর্মী সিবাকৃষ্ণ উপ্পলাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যান্সার রোগীদের অস্ত্রোপচার বা অন্য চিকিৎসা পিছিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না। এটি কোনো চিকিৎসা নির্দেশিকা নয়, বরং একটি নতুন গবেষণার দিশা।
ইলিয়াস সায়ুর বলেছেন, “যদি কোনো দিন বড় randomised clinical trial-এ প্রমাণিত হয় যে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য একটি ভ্যাকসিন ক্যান্সার রোগীদের বাঁচার সময় বাড়াতে পারে, তাহলে তা হবে পৃথিবী-কাঁপানো আবিষ্কার।”
তবে এখনও তা নিশ্চিত নয়। মার্কার্টের ভাষায়, “গ্লিওব্লাস্টোমার মতো রোগে আমরা প্রতিটি নতুন দিশাকে স্বাগত জানাই। এই গবেষণা আশা দেয়।”