প্ল্যানেটারি গবেষকদের একটি নতুন গবেষণায় বুধ গ্রহের পৃষ্ঠের সিলিকা (SiO₂) ঘনত্বের প্রথম নির্ভরযোগ্য অনুমান পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে গ্রহটির খোলসের (crust) নিচে অস্বাভাবিক ধাতব বা কার্বাইড রূপে সিলিকন থাকতে পারে।
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চ-এর গবেষক দল তাদের গবেষণায় Christiansen Feature (CF) নামক একটি স্পেকট্রাল পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এটি মিড-ইনফ্রারেড পরিসরে একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সংকেত, যা কোনো উপাদানের সিলিকা পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকরা সাত ধরনের কাঁচের (glass) নমুনা তৈরি করেছেন, যার সিলিকা পরিমাণ ছিল ০.৫% থেকে ৯৭.৬% পর্যন্ত। এই নমুনাগুলোকে ‘ক্যালিব্রেশন ওয়েট’-এর মতো ব্যবহার করে তারা CF-এর অবস্থান ও সিলিকা পরিমাণের মধ্যে গাণিতিক সম্পর্ক আরও নিখুঁত করেছেন।
চাঁদের মানচিত্র আরও স্পষ্ট হলো
এই ক্যালিব্রেশন প্রয়োগ করে নাসার Lunar Reconnaissance Orbiter-এর Diviner যন্ত্রের তথ্যে তারা চাঁদের পৃষ্ঠের সিলিকার মানচিত্র তৈরি করেছেন। তাতে দেখা গেছে, চাঁদের যে অংশগুলোতে ‘মারে বেসাল্ট’ (সমুদ্রসদৃশ অঞ্চল) রয়েছে, সেখানে সিলিকার পরিমাণ গড়ে ৪৬%-এর কম; আর ‘হাইল্যান্ডস’-এ (উচ্চভূমি) তা প্রায় ৫১%। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, চাঁদের কিছু অস্বাভাবিক আগ্নেয় স্থানে—যেমন Gruithuisen Domes, Hansteen Alpha ও Lassell Massif—সিলিকার পরিমাণ ৭৬% পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই স্থানগুলোকে আগে থেকেই রায়োলাইট ডোমের মতো মনে করা হতো, কিন্তু এত নিখুঁতভাবে তা কক্ষপথ থেকে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
গবেষকরা তাঁদের ফলাফল অ্যাপোলো, লুনা ও চাং’ই মিশন থেকে আনা নমুনার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখেছেন এবং তা সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ।
বুধের পৃষ্ঠে কী পাওয়া গেল?
এই ক্যালিব্রেশন চাঁদের বাইরেও কাজ করে। গবেষকরা এটি প্রায় দুই দশক আগে মাটি থেকে নেওয়া বুধের ইনফ্রারেড পরিমাপে প্রয়োগ করে দেখেছেন, বুধের পৃষ্ঠে সিলিকার পরিমাণ মাত্র ৩৭%—যা আগের MESSENGER মহাকাশযানের তথ্য থেকে পাওয়া অনুমানের চেয়ে অনেক কম।
এই কম সিলিকা পরিমাণ থেকে গবেষকরা ধারণা করছেন, বুধের পৃষ্ঠের কিছু সিলিকন হয়তো সাধারণ সিলিকেট খনিজের বদলে ধাতব বা কার্বাইড রূপে থাকতে পারে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের ড. ক্রিশ্চিয়ান রেংগলি বলেছেন, “আমাদের ফলাফল বলছে, বুধের আগ্নেয় শিলাগুলো সম্ভবত আগের ধারণার চেয়ে অনেক গভীর ম্যান্টেল উপাদান থেকে গলিত হয়ে তৈরি হয়েছে।”
কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?
এই নতুন পদ্ধতি বিশেষভাবে কাজে আসবে যখন ইউরোপীয়-জাপানি যৌথ মিশন BepiColombo-এর MERTIS যন্ত্র ২০২৭ সালে বুধের বিশদ পর্যবেক্ষণ শুরু করবে। গবেষকরা আশা করছেন, সেই তথ্য দিয়ে বুধের পৃষ্ঠের কম সিলিকা পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে। এই পদ্ধতি এমনকি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা অন্যান্য পাথুরে এক্সোপ্ল্যানেটের পৃষ্ঠের গঠন বোঝাতেও সহায়ক হতে পারে।
গবেষণাটি প্ল্যানেটারি রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।