এক হাজার বছরের প্রবাল বলছে, শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন সতর্কসংকেত?
এক হাজার বছরের প্রবাল বলছে, শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন সতর্কসংকেত?
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে নয়, উত্তর লুকিয়ে ছিল প্রবালের শরীরে। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের প্রায় এক হাজার বছরের প্রবাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখছেন, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় গত এক শতকে শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা অনেক বেশি ঘন ঘন ঘটছে। আর এর পেছনে মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে প্রমাণ আরও জোরালো হচ্ছে।
এল নিনো নতুন কোনো ঘটনা নয়। হাজার হাজার বছর ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এটি ফিরে এসেছে।
কখনো কয়েক বছর পরপর পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বদলে গেছে বাতাসের প্রবাহ, বৃষ্টির ধরন, সমুদ্রের স্রোত। আর প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হওয়া সেই পরিবর্তনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর বহু প্রান্তে।
কোথাও খরা।
কোথাও অতিবৃষ্টি।
কোথাও দাবানল।
কোথাও আবার তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড।
কিন্তু বিজ্ঞানীদের সামনে এখন নতুন প্রশ্ন—এল নিনো কি শুধু ফিরে আসছে না, বরং আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে?
নতুন এক গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাজির করেছে।
গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের প্রবাল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা গত প্রায় এক হাজার বছরের পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি বিস্তারিত চিত্র পুনর্গঠন করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ।
ফলাফল বলছে, গত এক শতকে শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব এক হাজার বছরের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন ঘটেছে।
অর্থাৎ, সাম্প্রতিক দশকগুলোর শক্তিশালী এল নিনোগুলো হয়তো কেবল প্রাকৃতিক ওঠানামার ফল নয়।
এর সঙ্গে মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরের সেই ‘দোলনা’
এল নিনো আসলে আরও বড় একটি জলবায়ু ব্যবস্থার অংশ। এর নাম El Niño–Southern Oscillation, সংক্ষেপে ENSO।
প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে একটি জটিল পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। কখনো সমুদ্রের নির্দিষ্ট অংশ স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হয়ে ওঠে। তখন তৈরি হয় এল নিনো।
আবার বিপরীত পর্যায়ে সমুদ্রের ওই অঞ্চল স্বাভাবিকের তুলনায় ঠান্ডা হয়ে যায়। সেটি পরিচিত লা নিনো নামে।
এই উষ্ণ ও শীতল পর্যায়ের দোলাচল শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের বিষয় নয়। পৃথিবীর আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
একটি শক্তিশালী এল নিনো বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, খরা, ঘূর্ণিঝড়, কৃষি উৎপাদন এবং বনাঞ্চলের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী এল নিনোর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দাবানল, খরা ও চরম আবহাওয়ার সম্পর্ক নিয়েও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল একটি—মানুষের শিল্পায়নের আগে এল নিনো কতটা শক্তিশালী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন।
কারণ নির্ভরযোগ্য সমুদ্রের তাপমাত্রা পরিমাপের তথ্য খুব বেশি পুরোনো নয়।
এখানেই কাজে এসেছে প্রবাল।
প্রবালের শরীরে লেখা এক হাজার বছরের জলবায়ুর ইতিহাস
গাছের কাণ্ডে যেমন বছরের পর বছর বৃদ্ধির বলয় তৈরি হয়, অনেকটা একইভাবে প্রবালের কঙ্কালও সময়ের সঙ্গে স্তরে স্তরে গড়ে ওঠে।
প্রবাল বৃদ্ধির সময় সমুদ্রের পরিবেশের নানা রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য তাদের শরীরে সংরক্ষিত থাকে।
বিজ্ঞানীরা সেই রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে অতীতের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন।
এই গবেষণায় গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের প্রবাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কারণ গ্যালাপাগোস অবস্থিত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে—যে অঞ্চলকে বিজ্ঞানীরা এল নিনোর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
আগের অনেক গবেষণায় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল ব্যবহার করে এল নিনোর ইতিহাস পুনর্গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এল নিনোর সবচেয়ে শক্তিশালী তাপমাত্রাগত পরিবর্তন ঘটে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অঞ্চলে।
ফলে পুরো ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এত দিন তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট ছিল।
গবেষক জুলিয়া কোলের ভাষায়, প্রবাল অনেকটা অতীতের দিকে তাকানোর একটি ‘টাইম মেশিন’।
তবে এই টাইম মেশিন ভবিষ্যৎ দেখাতে পারে না।
এটি শুধু দেখায়, পৃথিবী অতীতে কীভাবে আচরণ করেছে।
আর সেই অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনাই এখন উদ্বেগ তৈরি করছে।
গত এক শতকে কেন এত শক্তিশালী এল নিনো?
নতুন গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, গত এক শতকে শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা অতীতের দীর্ঘ সময়ের তুলনায় বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় এল নিনো স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হয়।
কখনো কয়েক দশক ধরে তুলনামূলক দুর্বল এল নিনো দেখা যেতে পারে। আবার কোনো সময় শক্তিশালী ঘটনা বেশি ঘটতে পারে।
তাই মাত্র কয়েক দশকের তথ্য দেখে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন।
কিন্তু যখন সেই তুলনার জন্য সামনে আসে প্রায় এক হাজার বছরের তথ্য, তখন চিত্রটি আরও পরিষ্কার হতে শুরু করে।
মানুষের ব্যাপক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির আগের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে বর্তমান যুগের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
শক্তিশালী এল নিনোর ঘনত্ব বেড়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ জলবায়ু মডেলগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসের সঙ্গেও মিলছে।
অনেক জলবায়ু মডেল বলছে, পৃথিবী উষ্ণ হতে থাকলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা এখনও সতর্ক।
কারণ ENSO পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল জলবায়ু ব্যবস্থাগুলোর একটি।
সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টিপাত এবং গভীর সমুদ্রের স্রোত—সবকিছু মিলেই এই ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই পুরো ব্যবস্থাটি ঠিক কীভাবে বদলাবে, সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনটি শক্তিশালী এল নিনো, মাত্র ১১ বছরে
বর্তমান পরিস্থিতি বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন করে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
যদি সেটি সত্যিই শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হয়, তাহলে মাত্র ১১ বছরের মধ্যে এটি হবে তৃতীয় শক্তিশালী ঘটনা।
এক হাজার বছরের পুরোনো প্রবাল রেকর্ডে এমন ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
এই কারণেই সাম্প্রতিক এল নিনোকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ অনেক গবেষক।
তাদের ধারণা, এটি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিবর্তনের অংশ।
পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যত বাড়ছে, সমুদ্রও তত বেশি তাপ শোষণ করছে।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলবায়ু ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরও সেই পরিবর্তনের বাইরে নয়।
তবে এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।
একটি শক্তিশালী এল নিনো মানেই যে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, তা বলা যায় না।
এল নিনো নিজেই একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র।
কিন্তু মানুষের তৈরি উষ্ণতা সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার তীব্রতা, সময়কাল কিংবা ঘনত্বকে পরিবর্তন করছে কি না—সেটিই এখন গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।
নতুন প্রবাল রেকর্ড বলছে, এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
পৃথিবীর এক প্রান্তে উষ্ণ পানি, অন্য প্রান্তে দুর্যোগ
এল নিনোর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, এর প্রভাব স্থানীয় নয়।
প্রশান্ত মহাসাগরের একটি অংশে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়লেও তার প্রভাব দেখা দিতে পারে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে।
কোনো অঞ্চলে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী খরা।
অন্য কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত।
ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনোর সময় শুষ্ক পরিস্থিতি এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিকের কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত।
কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং পানির সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
শক্তিশালী এল নিনো বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রাকে সাময়িকভাবে আরও ওপরে ঠেলে দেয়।
এর অর্থ হলো, মানুষের তৈরি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর এল নিনোর প্রাকৃতিক উষ্ণতা যুক্ত হলে নতুন তাপমাত্রা রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ফলে একটি বিষয় এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রকে আলাদা করে দেখলে পুরো ছবিটি বোঝা সম্ভব নয়।
দুটো এখন একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে নয়। তবু এল নিনোর প্রভাব থেকে দেশটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ENSO দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষ করে শক্তিশালী এল নিনোর সময় দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষা দুর্বল হওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যদিও প্রতিটি এল নিনোর প্রভাব একই রকম হয় না।
বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বর্ষার সময় ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের সামান্য পরিবর্তনও কৃষি, নদী ব্যবস্থা, পানির প্রাপ্যতা এবং খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া শুধু এল নিনো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।
ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা, বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি, মৌসুমি বায়ু এবং স্থানীয় আবহাওয়া ব্যবস্থাসহ আরও অনেক বিষয় একসঙ্গে দেশের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
তাই কোনো নির্দিষ্ট বন্যা, খরা বা তাপপ্রবাহকে শুধু এল নিনোর ফল বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না।
কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পৃথিবীতে এল নিনোর মতো বড় জলবায়ু পরিবর্তনশীল ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রবাল ভবিষ্যৎ দেখাতে পারে না, কিন্তু সতর্ক করতে পারে
গ্যালাপাগোসের প্রবাল বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতের ছবি দেখায়নি।
তারা দেখিয়েছে অতীত।
এক হাজার বছরের সেই জলবায়ু ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান যুগের শক্তিশালী এল নিনোর ঘনত্ব অস্বাভাবিক।
এটি হয়তো এখনও চূড়ান্ত উত্তর নয়। বিজ্ঞানীরা জানেন, ENSO সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি।
জলবায়ু মডেল এখনও এই জটিল সমুদ্র-বায়ুমণ্ডলীয় সম্পর্কের প্রতিটি দিক নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না।
কিন্তু প্রমাণের বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে একই দিকে ইঙ্গিত করছে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে।
সমুদ্র উষ্ণ হচ্ছে।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রগুলোর একটি—এল নিনো—সম্ভবত সেই পরিবর্তনের মধ্যেই নতুনভাবে আচরণ করতে শুরু করেছে।
গ্যালাপাগোসের প্রবাল তাই শুধু অতীতের তাপমাত্রা সংরক্ষণ করেনি।
হয়তো তারা আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্নও তুলে ধরেছে—
আমরা কি এমন এক পৃথিবীর দিকে এগোচ্ছি, যেখানে এল নিনো আর আগের মতো থাকবে না?
আর যদি উত্তরটি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে অন্যটি—
আমরা কি সেই পরিবর্তিত পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত?
এক বিলিয়ন ডলারের ‘বজ্রযন্ত্র’: ফিউশন শক্তির রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েও গবেষণা
পরবর্তীশহরের গাছই কি বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য
সম্পর্কিত সংবাদ

বিজ্ঞান বার্তা
গুটিবসন্তের টিকা: কীভাবে একটি গোয়ালার গল্প বিশ্বকে বদলে দিল

বিজ্ঞান বার্তা
বিসিজি (BCG) টিকা: ১০০ বছরের পুরোনো সেই টিকা, যা এখনও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে প্রধান ঢাল
বিজ্ঞান বার্তা
টিটেনাস টক্সয়েড টিকা: একটি বিষ থেকে জন্ম নেওয়া সুরক্ষা

বিজ্ঞান বার্তা
ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিন: একটি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী টিকার গল্প
বিজ্ঞান বার্তা
রেবিজ ও অ্যানথ্রাক্স টিকা: লুই পাস্তুরের দুই যুগান্তকারী আবিষ্কার
বিজ্ঞান বার্তা
HPV ভ্যাকসিন: ক্যান্সার প্রতিরোধের এক বৈপ্লবিক টিকা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
