নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কাগজের কাপের ভেতরের আস্তরণ ‘প্ল্যান্ট-বেসড প্লাস্টিক’ (PLA) দিয়ে তৈরি—যেগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও কম্পোস্টেবল বলে প্রচার করা হয়—সেগুলো গরম পানিতে প্রচুর পরিমাণে ন্যানোপ্লাস্টিক ছাড়ে। এই পরিমাণ ঐতিহ্যবাহী পলিথিন (PE)-আস্তরণযুক্ত কাপের চেয়ে ১২ গুণ বেশি!
গবেষণাটি কী বলছে?
কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সাধারণ পেপার কাপে ব্যবহৃত দুটি আস্তরণের তুলনা করেছেন:
PLA (Polylactic Acid)—ভুট্টা বা আখ থেকে তৈরি, যা কম্পোস্টেবল বলে দাবি করা হয়
PE (Polyethylene)—প্রচলিত প্লাস্টিকের আস্তরণ
তারা দেখেছেন, PLA-আস্তরণযুক্ত কাপ গরম পানিতে প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন ন্যানোপার্টিকেল প্রতি মিলিলিটারে ছাড়ে, যেখানে PE-আস্তরণযুক্ত কাপে তা মাত্র ২.৭ মিলিয়ন। অর্থাৎ, ‘পরিবেশবান্ধব’ কাপটি আসলে বেশি প্লাস্টিক কণা ছড়াচ্ছে আমাদের পানীয়তে।
ন্যানোপ্লাস্টিক কী এবং কেন এটা উদ্বেগজনক?
ন্যানোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের অতি-ক্ষুদ্র কণা, যা আকারে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো। এগুলো এতই ছোট যে সহজেই মানবদেহের কোষে প্রবেশ করতে পারে। এই কণাগুলো থেকে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে গবেষকরা স্পষ্ট বলেছেন, প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদান খাওয়ার জন্য তৈরি নয়—এবং তা শরীরে গেলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, যা এখনো গবেষণাধীন।
গবেষকদের পরামর্শ
গবেষকদের মতে, এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে মানুষ কাগজের কাপ ব্যবহার বন্ধ করবে। বরং তারা চান:
ভোক্তাদের জানানো হোক—কাপের আস্তরণ কী দিয়ে তৈরি
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো খাবার-সংস্পর্শী পণ্যের জন্য ন্যানোপ্লাস্টিক মুক্তির পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করুক
প্রস্তুতকারকরা এমন আস্তরণ তৈরি করুক যা গরম পানিতে কম প্লাস্টিক কণা ছাড়ে
লেবেলে স্পষ্ট উল্লেখ থাকুক—এই কাপে কী ধরণের প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে
গবেষণার সহ-লেখক ড. এলভিস ওকোফো বলেছেন, “পেপার কাপ মানেই প্লাস্টিক-মুক্ত নয়। নতুন প্লাস্টিক পণ্যগুলোকে শুধু পরিবেশগত দিক থেকেই নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যবহারে তারা কতটা প্লাস্টিক কণা ছাড়ে, সেটাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।” এই গবেষণা ন্যানোপ্লাস্টিক এক্সপোজার-এর একটি নতুন পথ চিহ্নিত করেছে, যা এতদিন উপেক্ষিত ছিল। গবেষণাটি সামগ্রিকভাবে প্লাস্টিক দূষণ ও মানবস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।